আজ লিখছি বিষয়ভিত্তিক লিখিত পরীক্ষা নিয়েঃ
অনেকেই এস আই পরীক্ষার প্রশ্নের ধরণ এবং কি কি নিয়ে পড়া যায় সে বিষয়ে জানতে চেয়েছেন।
আজ সে বিষয়েই লিখার চেষ্টা করছি।
এস আই-এর লিখিত পরীক্ষায় মনস্তাত্ত্বিক সহ মোট ৫ বিষয়ে ২২৫ নম্বরের পরীক্ষা হয়।
বাংলা ও ইংরেজি (৫০+৫০) একই দিনে হয়। একইভাবে গণিত ও সাধারণ জ্ঞান (৫০+৫০) একই দিনে হয়।
শেষের দিন শুধুমাত্র ২৫ নম্বরের মনস্তাত্ত্বিক হবে ৩০ মিনিটের। এই নিয়ে সর্বমোট ২২৫ নম্বরের পরীক্ষা।
কথিত আছে ৫০% পেলেই পাশ। তবে অবশ্যই প্রতিটি বিষয়ে আলাদাভাবে পাশ করতে হবে। কোন এক বিষয়ে ফেল করে বাকি সবগুলোতে নজরকাড়া নম্বর পেলেও লাভ নেই।
৫০% হিসেবে পাশ ধরলে ২২৫ এ মোট ১১২/১১৩ পেলেই পাশ ধরা হয়। তবে মূলত ২২৫ এ ১০১.২৫ পেলেই লিখিত পাশ। কিন্তু, শুধু রিটেন পাশ মানেই ভাইভার জন্য সিলেক্টেড হয়ে যাবেন এমনটা ভাবা বোকামি। প্রায় ১ লাখ প্রার্থী লিখিত পরীক্ষা দেয়, পাশ করে প্রায় ৭/৮ হাজার। কিন্তু ভাইভার জন্য মনোনীত হয় ৩/৪ হাজার।
ভাবছেন বাকিরা তো পাশ করেছে, তাহলে বাদ কেন??
পাশ করেছে, কিন্তু প্রাপ্ত নম্বরের পার্থক্যে তারা পাশ করেও বাদ। তবে যদি কেউ জিজ্ঞেস করেন যে ২২৫ এ তাহলে কত পেলে ভাইভার জন্য ডাক পাওয়া যাবে??
আমি বলবো, ১৫০+ মোটামুটি একটা সেইফ স্কোর।
তবে, ১৬০+ পেলে কনফার্ম থাকতে পারেন যে ভাইভা বোর্ডে আপনি পারফর্ম এর পাচ্ছেন। অন্যদের চেয়ে নিজেকে আলাদাভাবে এগিয়ে রাখার মূল হাতিয়ার হচ্ছে #গণিত। কোনভাবে যদি গণিতে ৫০ তুলে ফেলতে পারেন তাহলে আপনি অনেকের চেয়ে এগিয়ে থাকবেন নিশ্চিতভাবেই।
এবার আসি মূল আলোচনায়-
বাংলায় ৫০ নম্বরের মধ্যে থাকবে এক কথায় উত্তর, বাগধারা, ভাব-সম্প্রসারণ, রচনা লিখা, অনুবাদ করা। অনেকক্ষেত্রে চিঠি অথবা আবেদনপত্রও থাকতে পারে।
ভাব-সম্প্রসারণ ও রচনায় পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখার চেয়ে, তথ্যবহুল লিখন বেশি নম্বর পাওয়ার পক্ষে কাজ করে। ভাব-সম্প্রসারণে মূলভাব, সম্প্রসারিত ভাব, উপসংহার এই ৩ টা পয়েন্ট দিয়েই সুন্দর করে সাজিয়ে লিখবেন। আর রচনায় নিজের পছন্দানুযায়ী পয়েন্ট দিয়ে লিখবেন। অবশ্যই বানান এবং হাতের লেখার প্রতি যত্নশীল হবেন।
অনুবাদে প্রতিটি শব্দভেদে অনুবাদ না করে বাক্য হিসাবে অনুবাদ করবেন। সাধারণত অনুচ্ছেদ আকারে অনুবাদ আসবে। আলাদা আলাদা বাক্য না।
লিখিততে নম্বর তোলার আরেকটি মোক্ষম বিষয়। কেননা, অধিকাংশ প্রার্থীই ইংরেজিতে দুর্বল হয়ে থাকে। তাই এটাতে ভালো নাম্বার তুলতে পারেনা। আবার এমনও হয়, বাকি সবগুলোতে তুখোর নাম্বার পেলেও ইংরেজিতে ফেল করার কারণে সে বাদের কাতারেই পড়ে যায়। সো, বি কেয়ারফুল।
ইংরেজিতেও বাংলার মতোই কোয়েশ্চন প্যাটার্ন হয়ে থাকে। Essay থাকবে, বানানের দিকে খেয়াল রেখে লিখবেন সুন্দর করে। এক্ষেত্রে পয়েন্ট দেয়াটা ফ্যাক্ট না।
Preposition এ শূন্যস্থান পূরণ, Phrase & Idioms থাকবে, অর্থসহ বাক্য গঠন, Letter or Application থাকবে, লিখবেন।
ভাইটাল হচ্ছে Translation. অবশ্যই সুন্দরভাবে বাক্য ধরে ধরে অনুবাদ করবেন। এখানেও বাংলার মতোই অনুচ্ছেদের মত করে অনুবাদ করতে দিবে।
লিখিত পরীক্ষায় অন্যদের সাথে পার্থক্য গড়ে এগিয়ে থাকার প্রধান হাতিয়ার এটা। এটার প্রাপ্ত নম্বর আপনার ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করে দিবে।
কোনভাবে যদি ৫০ নম্বর কনফার্ম করে ফেলতে পারেন, মোটামুটি সিউর যে ভাইভাতে ডাক পাচ্ছেন।
গণিতের ৫০ এর জন্য ৫ টা থেকে ৬ টা অংক থাকে। সাধারণত সব পাটিগণিত থেকেই আসে। ক্যালকুলেটর নিতে দিবেনা। তবে ক্যালকুলেটর লাগবেই এমন অংকও দিবেনা। সো চিন্তা নাই।
গণিতের ৫০ নম্বরের সাথে সাধারণ জ্ঞানের ৫০ মিলিয়ে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা একসাথেই হয়।
সমসাময়িক ও আলোচিত বিষয় নিয়ে সংক্ষেপে লিখতে বলতে। এককথায় উত্তর লিখতে দিবে।
Abbreviation থাকবে, বিভিন্ন আলোচিত নাম বা বিষয় নিয়ে টীকা লিখতে দিবে।
১০ নম্বরের করে ১/২ টা রচনামূলক প্রশ্ন থাকবে।
এটাকে IQ বলা যায়। মানসিক দক্ষতা যাচাইয়ের বিষয় এটা।
মাত্র ৩০ মিনিটে ২৫ নম্বরের পরীক্ষা এটা। মাথা খাটিয়ে উত্তর দিতে হবে ভেবেচিন্তে।
এ বিষয়ে বলে রাখি, প্রথম দেখায় সহজেই যেটা উত্তর মনে হবে, দেখবেন এটাতেই ঘাফলা। সো ভেবেচিন্তেই আন্সার দিবেন। বুঝতেই পারছেন, বিষয়ের নামই মানসিক দক্ষতা।
সর্বোপরি, ভালভাবে প্রস্তুতি নিয়েই হলে যাবেন। ভয়ের কিছুই নেই। যার প্রস্তুতি ভালো, সে-ই পরীক্ষার হলের বাদশা।
দোয়া ও শুভেচ্ছা রইলো।
(লেখায় প্রাঞ্জলতা কম কিংবা কোন ভুল-ত্রুটি থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো)
#তোফায়েল_আহমেদ_তোফু
ক্যাডেট এস আই
বুড়িচং, কুমিল্লা।








0 comments:
Post a Comment